সরকারের অর্থ পকেটে পুরে কোটিপতি না.গঞ্জ তিতাসের কর্মচারী

104
তিতাস গ্যাস
তিতাস গ্যাস

ঢাকা অফিস

পুরানো লাইন সংস্কারের নামে দেওয়া হচ্ছে নতুন সংযোগ। বিনিময়ে নেওয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। সরকারকে ফাঁকি দিয়ে পকেট ভরছে তিতাসের কর্মকর্তা কর্মচারী ও দালালদের, ভোগান্তিতে বৈধ গ্রাহক ও সাধারণ জনগণ।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কুতুবপুরের নয়ামাটি মুসলিম পাড়া এলাকায় চলছে তিতাস গ্যাসের পুরানো লাইনের সংস্কার করনের কাজ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
নারায়ণগঞ্জের তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক শফিক সহ চারজনের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের আখের গোছাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্যাস এর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছেন তারা।

সারাদেশে আবাসিক নতুন সংযোগ বন্ধ থাকলেও রাতের আধারে নতুন সংযোগ অবৈধ ও অনৈতিক লেনদেন এর মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে।

আর্থিক উৎকোচ গ্রহণ করে আবার পুনরায় সেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে গ্রাহক ও স্থানীয় জনতার রোষানলে পড়ে নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর সহকারী ব্যবস্থাপক ডিজিএম শফিকুর রহমান সহ আরো তিনজন।

এ সময় এই কর্মকর্তাদের আর্থিক উৎকোচ গ্রহনের বিষয়টি প্রকাশ্যে বলতে থাকেন গ্রাহকরা। যার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওটিতে দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলা নয়ামাটি মুসলিম পাড়া এলাকায়,বেশকিছু গ্রাহক ও স্থানীয় জনতা উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি সামনে আনেন।

উৎকোচ গ্রহণ করে কেন আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে এসেছে এমন প্রশ্ন করলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি, বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ।

এসময় সহকারী ব্যাবস্তাপক শফিকুর রহমান, ইলেক্টেশিয়ান আয়ূব আলী,ড্রাইভার সেলিম সহ তিনজনের নাম বলতে থাকেন গ্রাহকরা।

উল্লেখ্য গত ২৩ নভেম্বর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলা নয়ামাটি মুসলিম পাড়া এলাকায় পুরাতন গ্যাস লাইন সংস্কারের কাজ চলা কালীন সময়ে বকেয়া বিল ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার সময় এই ঘটনাটি ঘটেছে।

নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিতাসের একজন ঠিকাদার বলেন ভাই বলতে গেলে অনেক কথাই বলতে হয় কথায় আছে শ্বশুর বাড়ি মধুর হাড়ি নারায়ণগঞ্জ তল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটার পর নারায়ণগঞ্জ থেকে বদলি হওয়া কর্মকর্তাগণ কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতার বলে আবারো বদলি হয়ে আসেন নারায়ণগঞ্জেই কারণ এখানে মধু আছে।

এই বিষয়ে তিতাসের সহকারি ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন আমার সাথে কি কথা বলবেন আমি এই বিষয়ে কিছু বলবনা যদি কথা বলতে হয় তাহলে অফিসে গিয়ে বড় কর্তাদের সাথে বলেন।
সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেলের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বিভিন্ন গ্ৰাহকদের কথা বলে বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেন।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম ফারুক এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন নতুন সংযোগ কোন ভাবেই সম্ভব না অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারী ও সংযোগদাতা দুইজনেই অপরাধী তবে তিতাসের কর্মকর্তারা বেশি অপরাধী নাম সহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বদলি হওয়া কর্মকর্তাগণ কোন ক্ষমতা বলে আবারো নারায়ণগঞ্জে বদলি এসেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমি এখানে নতুন এসেছি এ বিষয়টি আমার জানা নেই।