সন্ত্রাসী আক্তার বাহিনীর ৫ চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার

68
সন্ত্রাসী আক্তার বাহিনীর ৫ চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার
সন্ত্রাসী আক্তার বাহিনীর ৫ চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার

আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদার দাবিতে ইপিজেডের সামনে অস্ত্র মহড়া
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি 
সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে আধিপত্য বিস্তার ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে চাঁদা আদায়ের সময় নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির শেল্টারে বেপরোয়া হয়ে উঠা পানি আক্তার ও আশরাফ উদ্দিন বাহিনীর ৫ চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইপিজেডের কদমতলী কাঠের পুল এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির নগদ অর্থ উদ্ধার কওে র‌্যাব। তবে ডিএনডি সেচ খালে ঝাপ দিয়ে পানি সাঁতরিয়ে পালিয়ে যায় দল নেতা পানি আক্তার।

আরও পড়ুনঃ

লকডাউনেও চালু থাকবে হিলি স্থলবন্দরের কার্যক্রম

বড়াইগ্রামে ভেজাল গুড় তৈরীর অপরাধে জরিমানা

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- হৃদয় মিয়া(২৫), বাবু (৩০), নূও হোসেন(২৩), মো: হাসান (২১), রাসেল (৩০)। পানি আক্তারসহ পালিয়ে গেছে আল আমিন (২৫), মহিন (২৪), আরিফুল ইসলাম (২৫), জীবন (২৫), রাফি (২৪), হৃদয় (২৬) ও রবিউল আলম (২৬)।
জানা গেছে, আতমজী ইপিজেডের অভ্যন্তরে এস এস এল প্যাকেজিং কারখানার ওয়েস্টিজ মালামালের ব্যবসা করছে এফআর ট্রেডার্স ও মাসুম শেখ। বেপজার নিয়মনীতি মোতাবেক কারখানা মালিকের সম্মতিতে তারা ব্যবসা করছে। কিন্তু এই কারখানার নিয়ন্ত্রন নিতে মরিয়া হয়ে উঠে নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির অন্যতম সহযোগী পানি আক্তার ও আশরাফ উদ্দিন। তারা এফআর ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারীকে মালামাল ইপিজেড থেকে বের করতে বাধা দেয়। মালামাল বের করতে হলে তাদেরকে চাঁদা দিতে হবে। গত ২৮ জুন মালামাল বের করার কথা থাকলেই সন্ত্রাসী পানি আক্তারের হুমকির কারণে বের করতে পারেনি। এবিষয়ে একই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের বড় ভাই আওয়ামীলীগ নেতা মজিবুর মন্ডল র‌্যাব-১১ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে জানায়।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার মালামাল বের করা হবে জানতে পারে সন্ত্রাসী পানি আক্তার ৩০ থেকে ৪০ জন সহযোগীনিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইডিজেডের সামনে মহরা দিতে থাকে। এসময় ইপিজেড এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি দল ইপিজেডের প্রধান গেইটের সমানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া দিলে পানি আক্তার ডিএনডি সেচ খালে ঝাপিয়ে পড়ে। সাঁতরিয়ে পানি আক্তার গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হলেও পালাতে পারেনি তার সহযোগী হৃদয় মিয়া, বাবু, নূও হোসেন, মো: হাসান, রাসেল।
এবিষয়ে র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, একটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ইপিজেডে যাতায়াতকারী বিভিন্ন পণ্য পরিবহন ও ব্যবসায়ীদেরকে জিম্মি করে চাঁদাবাজী করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে একটি চাঁদাবাজ বাহিনী ইপিজেডের গেইটের সামনে অবস্থান নিয়ে চাঁদাবাজি করার সময় ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। অনরা পালিয়ে যায়।
তিনি আরো জানান,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা স্বীকার করেছে, তারা স্থানীয় কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির লোক। তারা পরষ্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন আদমজী ইপিজেডের রপ্তানীমূখী পন্য পরিহনে চাঁদাবাজী করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে র‌্যাব বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত সাইফুল ইসলাম জানান, চাঁদাবাজির মামলা করে র‌্যাব ৫ জনকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তারা সবাই মামলার এজাহার নামীয় আসামি।