যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকের প্রানের দাবী বেড়িবাধ

137
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকের প্রানের দাবী বেড়িবাধ
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকের প্রানের দাবী বেড়িবাধ

নাসির আহমেদ, দশমিনা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় সিডর,রেশমী,নার্গীস,আইলা ও সর্বশেষ আম্ফানের তান্ডবে উপকূলীয় চরাঞ্চলে বেড়িবাধ না থাকায় প্রতি বছর প্রায় কোটি টাকার ফসল নষ্ট হচ্ছে। ঘূর্নিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কবলে পরে একাধিক বার সর্বশান্ত হয়েছে উপকূলীয় উপজেলা দশমিনার মানুষ।

আরও পড়ুনঃ

ত্রানের নামে ডেমরায় চেতনানাশক খাইয়ে যুবতীকে গণধর্ষন

Time for World Leadership

উপজেলা সদরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দূর্গম চরাঞ্চলে বেড়িবাধ না থাকায় চরবোরহান, চরশাহজালাল, চরহাদী,চরবাঁশবাড়ীয়া,চরঘূর্নি, চরআজমাইন, লালচর, চরতৈলক্ষ্য, চর ফাতেমা সহ দশমিনার চরাঞ্চলে প্রতি বছর ঘূনিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ও সাগরের নোনা পানি ঢুকে চরে বসবাসকারী কৃষকদের ফসলের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। বার বার ফসল হানির কারনে হাজার হাজার চরের কৃষক, মহাজন ব্যাংক ও এনজিও থেকে একাধিকবার ঋন গ্রহন করে পরিশোধ করতে পারছে না। উপজেলায় বুড়াগৌরাঙ্গ ও তেঁতুলিয়া নদীর বুকচিরে জেগেওঠা ছোট বড় ২৫/৩০ টি চরে ৫০ হাজার মানুষের জনবসতি রয়েছে। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা চরাঞ্চলে বেড়িবাধসহ উন্নয়নের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও কেউ কথা রাখেনি। চরের কৃষকেরা সরকারের কাছে বেড়িবাধ নির্মানের দাবী জানিয়ে বহুবার স্বারকলিপি ও মানব বন্ধন করেছে। চরবোরহানের বাবুল সরদার (৪৮) মোকলেস মাতুব্বর (৬৫ )জানান, এই সব চরে জনবসতী গড়ে ওঠার ৩৫/৪০ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত বেড়ীবাধ নির্মান করা হয়নি। এসব চরের চারদিকেই নদী দ্বারা বেষ্টিত। চরশাহজালালের কৃষক রফিক হোসেন (৪০) হানিফ বয়াতী (৫৬) বাদশা হাওলাদার (৫৫) জানান, আমাগোরে আল্লায় বাচায়ে রাখছে,আমাগো চরে কোন বেড়িবাধ না থাকায় বন্যা জলোচ্ছ্বাসে নোনা পানি ঢুকে প্রতি বছর ফসল নষ্ট হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে বেড়িবাধ চাই,রিলিফ চাই না। চরহাদির কৃষক বারেক হাওলাদার(৫৫),মোঃ আমিন(৪০) মতি মাতুব্বর (৬০) কালু মৃধা (৬৫) জানান,ঝড় জলোচ্ছ্বাসের পর সরকারি ও বেসরকারীভাবে চরের মানুষকে ত্রান দিলেও বন্যার হাত থেকে আমরা কিভাবে বাচতে পারি সে ব্যবস্থা কেউ করে দেয় না। তারা জানান,ঘূর্নিঝড় জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি অবর্ননীয়। বেড়িবাধ ছাড়া আমাদের বাচাঁর কোন উপায় নেই। বারবার ত্রান না দিয়ে একবার বেড়ীবাধ নির্মান করে দিন। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাশঁবাড়িয়া চরের কৃষক মনির হাওলাদার(৫০),আজাহার বেপারী(৬০),কবির হোসেন(৫৫),আলমাছ ফকির(৪৫) জানান,তাদের চরে বেড়ীবাধ না থাকায় কয়েক দফা বন্যায় ক্ষেতের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চলের কৃষকের একটাই দাবি ত্রান নয় এবার বেড়িবাধ চাই। দশমিনার ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল মাহামুদ লিটন জানান,চরহাদীতে বেড়ীবাধ নির্মানের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি। তিনি আরো জানান,বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে চরে নোনা পানি ঢুকে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে।
বাঁশবাড়ীয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন আকন জানান, উপজেলা সমন্বয় সভায় চরে বেড়িবাধ নির্মানের দাবি জানিয়েছি। চরবোরহান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজির আহমেদ সরদার জানান, চরাঞ্চলে বেড়িবাধ না থাকায় ঝড় জলোচ্ছ্বাসে নদী ও সাগরের নোনা পানি ঢুকে কৃষকের ফসলের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয় তাই চরাঞ্চলে বেড়িবাধ নির্মান করা একান্ত প্রয়োজন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ জাফর আহমেদ জানান, ঝড় জলোচ্ছ্বাস ও নোনা পানি ঢুকে প্রতি বছরই কৃষি ফসলের ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল আমিন জানান, চরের বেড়িবাধ নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এস,এম,শাহজাদা জানান, বিষয়টি পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়কে অবহিত করা হয়েছে তারা জানিয়েছেন এই ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
উপজেলা ত্রান ও পূর্নবাসন অফিস সুত্রে জানা গেছে ঘূর্নিঝর সিডর থেকে আম্ফান পর্যন্ত চরাঞ্চলে প্রায় ১শ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।