মা

1155

শাকিল আহমেদ সৌরভ

‘মা’ শব্দটি উচ্চারণ করতেই মনে কেমন এক অদ্ভুত অনুভূতি ঢেউ খেলে যায়। ‘মা’ একবার প্রাণ ভরে ডাকলে বুকটা জুড়িয়ে যায়। মায়ের প্রিয় মুখটি সন্তান যখন দেখে প্রাণ ভরে হাজার কষ্ট ব্যথা নিমিষেই দূর হয়ে যায়। প্রত্যেকটা সন্তানের কাছে তার ‘মা’ সর্বদাই শ্রেষ্ঠ। মায়ের দোষ গুণ কখনো সন্তান বিচার করে না। ‘মা’ সেতো ‘মা’। প্রতিটি সন্তানের কাছে মা অমূল্য রতœ। তবে যে সন্তান তার মায়ের সাথে ব্যতিক্রম আচরন করে সে বড়ই হতভাগা। মায়ের মনে কষ্ট দিলে সুখ আসে না জীবনে।

বলা হয়ে থাকে মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত। এ কথাটি কেউ যদি ভালোভাবে বুঝতে পারে সে তার মাকে কখনো কষ্ট দিবে না। কথাটিতে বলা হয়েছে যে মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত। এখানে বলা হয় ভালো বা চরিত্রবান মায়েদের পায়ের নিচে জান্নাত। অর্থাৎ ‘মা’ তো মা’ই সে ভালো হোক খারাপ হোক আর ‘মা’ যদি সন্তানকে কষ্টও দেয় তবুও সন্তানের উচিত মাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া।আর যাই হোক একজন ‘মা’ কখনো সন্তানের খারাপ চায় না। একজন আদর্শ সন্তানের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত মাকে সর্বাধিক মর্যাদা দেওয়া। ‘মা’ হলো আল্লাহ শ্রেষ্ঠ নেয়ামত।

আর সমাজে চোখ মেলে তাকালেই বুঝতে পারি যে, মা এমন একটি চরিত্র যার তুলনা হয় না।
সমাজে একটা প্রবাদ প্রচলিত আছে,
“চিড়া বলো,মুড়ি বলো
ভাতের মতো নয়।
মাসি বলো,পিসি বলো
মায়ের মতো নয়।
অর্থাৎ দুনিয়াতে মায়ের অভাব আর কোন কিছু দিয়ে পূর্ণ হবে না। যেমন চিড়া মুড়ি যতই খায় ভাতের তৃপ্তি পাওয়া যায় না। ঠিক তেমনি দুনিয়াতে ‘মা’ ছাড়া অন্য জনের কাছ থেকে ভালোবাসাও পেয়ে সন্তান মায়ের অভাব পূরণ করতে পারে না। মা’ই একমাত্র ব্যক্তি যার ভালোবাসায় কোন স্বার্থ থাকে না। আর মায়েরা কোন অবস্থাতেই সন্তানদের অনিষ্ট চান না।
সন্তান হাজার অন্যায় করেও যদি নিজের ভুল বুঝতে পেরে একবার ‘মা’ বলে ডাকে তবেই ‘মা’ সবই ভুলে যায়। মায়ের মতো নিঃস্বার্থভাবে সন্তানকে আর কেউ ভালোবাসতে পারে না।
মায়ের মহত্বের কথা বলে শেষ করা যাবে না।

শুধু মানুষ নয় পশুপাখির কথা ভেবে দেখলেও আমরা দেখতে পারি মায়ের ভালেবাসার গভীরতা।গ্রামের ঘর বাড়িতে পালিত মুরগির কথা বলা যাক। নিজের বাচ্চাগুলোকে কত যতœ করে আগলে রাখে।মুরগি ‘মা’ যখন বুঝতে পারে তার বাচ্চার উপর কোন বিপদ হতে পারে তখন শব্দ করে কি যেন বলে। আর বাচ্চাগুলো সব ওমনি ছুটে এসে মায়ের বুকের ভিতর লুসিয়াস পড়ে। কি অদ্ভুত সে দৃশ্য। এই মা যে বিপদে আপদে সন্তানকে আগলে রাখে। অনুরূপভাবে আমরা সকল প্রকার প্রাণীর মধ্যে মা বাচ্চাদের অটুট সম্পর্কের বন্ধন লক্ষ্য করে থাকি। কিন্তু তাদের স্মৃতি শক্তি কম বলে একটা সময় মায়ের মায়া মমতার কথা ভুলে যায়।

কিন্তু কষ্টের বিষয় যখন সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ মায়ের মায়া মমতার কথা ভুলে যায়। একজন সন্তানের কখনো উচিত না মায়ের এতো মায়া মমতার কথা ভুলে যাওয়া। যার ‘মা’ নেই সে’ই তো বুঝে ‘মা’ কি জিনিস। মা’যে সন্তানের অনুপ্রেরণা, মা’যে সন্তানের শক্তি আর মায়ের প্রতি রাখা উচিৎ সীমাহীন ভক্তি।

‘মা’ সেই ব্যক্তি যিনি কোন মোবাইল টেলিফোন ছাড়াই বুঝতে পারে সবার আগে সন্তানের কোন বিপদ হলে।সন্তান বিপদে পড়লে অলৌকিকভাবে মায়ের কাছে খবর পৌঁছে যায়। যার ‘মা’ জীবিত নেই তার যেন অর্ধেক পৃথিবী নেই। ‘মা’ তিনি এমন ব্যক্তি যিনি তার সন্তানকে দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করেন।তার কি কঠিন যন্ত্রণা সে তো শুধু মা’ই
জানে।আর মা এমন ব্যক্তি যাকে কষ্ট দিয়ে কেউ সুখী হতে পারে না।আর যে সন্তান মাকে খুশি রাখে সে নানান সফলতার মুখ দেখেন। মায়ের দোওয়া যেন সন্তানের লাগে রকেট কামান ও বন্দুকের আগে। মাকে কষ্ট দিলে সৃষ্টিকর্তা অসন্তুষ্ট হন।

আমাদের সকলের উচিত হবে মাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া এবং মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত কথাটির তাৎপর্য বুঝা।’মা’ সে যে বড়ই আপন জন। ‘মা’ ছাড়া কোন সন্তানের জীবন পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে না।