মহাত্মা গান্ধী, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা

1095

স্বদেশ রায়

দেড় শততম জম্মবার্ষিকীতে যখন আমরা মহাত্মা গান্ধীকে স্মরণ করছিÑ এ সময়ে মহাত্মা গান্ধী কোন একটি দেশের জাতির জনক বা কোন একটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ একজন ব্যক্তি নন। মহাত্মা গান্ধী সারা পৃথিবীতে একটি আদর্শের নাম। মহাত্মা গান্ধীর মতো অনেক বড় নেতা পৃথিবীতে আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তারা মানুষের আদর্শ হিসেবে নিজ নিজ অবস্থানে অবস্থান করছেন। তাদের সঙ্গে হিসাব মেলালে দেখা যাবে, গান্ধী যে আদর্শ পৃথিবীকে দিয়ে গেছেন তা যেমন সময়ের গ-ি পার হয়ে ভবিষ্যতের দিকে ছুটছে, তেমনি সুদূর অতীত থেকে মানুষ যে সমস্যাকে মোকাবিলা করতে চেয়েছে কিন্তু পারেনি, মহাত্মা গান্ধী তার সমাধান খুঁজে পেয়েছিলেন। তিনি সেটাকে শুধু সংজ্ঞায়িত করেন না, বাস্তবে প্রয়োগ করেন পৃথিবীতে।

আমরা যদি পাঁচ হাজার বছর আগের মহাকাব্য মহাভারতের কেন্দ্রীয় চরিত্র দ্রৌপদীর দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই, এই পাঞ্চাল কন্যা মূলত পৃথিবীর হিংসার শিকারের একটি প্রতীক। তাকে বিবস্ত্রা করার চেষ্টা হচ্ছে, তার কেশাগ্র ধরার চেষ্টা হচ্ছে, অর্থাৎ একজন নারীকে নির্যাতন করার, অপমান করার জন্য যা যা করতে পারে দুর্বৃত্তরা তার সবই হচ্ছে প্রকাশ্যে। আর তার বিপরীতে ন্যায়, ধর্ম কোন পথ খুঁজে পাচ্ছে না। তারা কৌশলের কাছে পরাজিত। আজও যদি পৃথিবীর হিংসার শিকারের প্রতীককে আমরা দ্রৌপদী হিসেবে কল্পনা করি, তাহলে দেখতে পাই নির্যাতনের যত কৌশল, যত পথ সবই নেয়া হচ্ছে অসহায়ের ওপর, না হয় কৌশলে দ্রৌপদীর মতো অসহায় করে ফেলা হচ্ছে। ভীমসেনের মতো মহাবলশালী, অর্জুনের মতো পরাক্রমশালী স্বামীরাও সেখানে অসহায়।

বাস্তবে হিংসা যখন কৌশলে সমাজে স্থান নেয়, তার রাজত্ব দাপটে চালিত করে তখন দ্রৌপদীরা এমনি অসহায় হয়ে পড়ে। আর এখানেই দেখতে পাই, পাঁচ হাজার বছর আগের মহাকাব্যের চরিত্র দ্রৌপদী অত্যাচারে, অপমানে, হতমানে ক্লীষ্ট হয়ে এক পর্যায়ে গিয়ে অর্জুনকে বলতে বাধ্য হচ্ছে, হে কৌন্তেয় একটা যুদ্ধ কর, শেষ হোক নির্যাতনের কাল। দ্রৌপদীর এই দীর্ঘশ্বাস মিশ্রিত আহ্বানÑ এই হিংসার বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধের আহ্বান, কেবল পাঁচ হাজার বছরের মহাভারতের এক নির্যাতিতার চরিত্রের মুখ থেকে বের হওয়ার আহ্বান শুধু নয়, যদি আমরা মানব সভ্যতার ৭০ হাজার বছরের ইতিহাসে যাই সেখানেও বার বার পাই এ আহ্বান। সেখানে দেখা যায়Ñ নির্যাতন, হত্যা, ধ্বংস ও অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য, হিংসাত্মক যুদ্ধের বিরুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধ। যে যুদ্ধটি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য করা হয় সেটাকে আমরা গ্লোরিফাই করি নানান অভিধায়। তাই আমরা দেখি কুরুক্ষেত্রে দ্রৌপদীর দুঃখের অবসান হয় বটে, তবে সব স্বজনের মৃতদেহের পাহাড় জমে ওঠে, দিকে দিকে বাতাসে শিশু আর নারীর কান্না। আর এই কান্না ও ভারি বাতাসকে ঢেকে রেখে আমরা পা-বদের প্রশংসা শুধু করি না, মনে মনে ধরে নেই- হয়তো একটা শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। বিজয়ী হয়েছে ন্যায় ধর্ম। আমরা যদি পাঁচ হাজার বছর আগের থেকে একেবারে বিংশ শতাব্দীতে চলে আসি, আমরা যদি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা বলি, সেখানেও কি সেই মহাভারতের একই হিসাব-নিকাশ নয়? আমরা কি কেবল সান্ত¡না খুঁজি না মিত্র শক্তির বিজয়ের ভেতর? মনে করি নাজি বাহিনীর পতন হয়েছে, ধরে নেয়া যাক, এটাই পৃথিবীর শান্তি। আমরা ভুলে থাকি হিরোশিমা, নাগাশাকির শিশু, নারী, যুবা ও বৃদ্ধের গলে যাওয়া শরীর, তাদের আর্তচিৎকারের ভারি বাতাস। আবার যদি পেছনে ফিরে গিয়ে নিঅ্যান্ডারতাল ও হোমো সেপিয়ান্সের লড়াই খুঁজি সেখানেও এক পক্ষের হাতে আরেক পক্ষ নিশ্চিহ্ন হবার ইতিহাস।

পৃথিবীর এই হাজার হাজার বছরের প্রবহমান ধারা অর্থাৎ হিংসাকে হিংসা দিয়ে দমন করা, হিংসার বিরুদ্ধে হিংসার অস্ত্র প্রয়োগ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, এর বিপরীতে মানুষ শান্তি খুঁজেছে সব সময়ই। খ্রিস্টের জন্মের পাঁচ শত বছর পূর্বে গৌতম জন্ম নিয়ে বুদ্ধ হলেন, শান্তির কথা বললেন। হিংসা থেকে বিরত থাকতে বললেন। তবে তিনিও সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারলেন না, শান্তি যখন আক্রান্ত হয়, সত্য ধর্ম যখন আক্রান্ত হয়, মানুষ তখন কিভাবে তার মোকাবিলা করবে? খ্রিস্টের জন্মের প্রায় দুই হাজার বছর পরে এসে ভারতের এক সাধারণ ঘরের সন্তান মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধী, যিনি আজ গোটা পৃথিবীর আপনজন মহাত্মা গান্ধী, তিনি শুধু বললেনই না হিংসার বিরুদ্ধে অহিংসার শক্তি প্রয়োগ করতে হবে, তিনি দেখিয়ে দিলেন, কিভাবে হিংসার বিরুদ্ধে অহিংসার শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। মানুষের মনের ভেতর যে শান্তি প্রতিষ্ঠার, ন্যায় প্রতিষ্ঠার শক্তি আছে এই শক্তিকে অহিংস পথে প্রয়োগ করে সহিংসতাকে পরাভূত করতে হবে। গান্ধীর সময়ে রবীন্দ্রনাথ ও টলস্টয় একই ধরনের চিন্তা করেছিলেন, তারাও বুদ্ধের মতো একটা শান্তির পথ খুঁজেছিলেন। তাঁরা বুঝতে পারছিলেন, হিংসার শক্তিতে নাটকীয়তা বেশি, শান্তি চলে নিঃশব্দে। পৃথিবী যে এখনও ধ্বংস হয়ে যায়নি এটাই প্রমাণ করে পৃথিবী হিংসার পথে নয়। তাদের এই উপলব্ধি সত্য ছিল। তবে হিংসার বিপরীতে অহিংসাকে শক্তিকে পরিণত করে তার প্রয়োগ সম্ভব কি-না, বা কোন পথে- এ নিয়ে কেউ কোন বাস্তব উদাহরণ পাচ্ছিলেন না। তাছাড়া অহিংসাকে বড়ই শক্তিহীন মনে হয় তখনও অবধি।

এখানেই গান্ধীর বিশেষত্ব, এখানেই গান্ধী পৃথিবীকে নতুন একটি পথ খুলে দিলেন। একটি আদর্শ দিলেন প্রয়োগের ভেতর দিয়ে। তিনি স্পষ্ট করে বললেন, অহিংসা মানে শক্তিহীনতা নয়, বীরত্বহীনতা নয়, বরং অহিংসা হিংসার বিরুদ্ধে এক দৃঢ়তাপূর্ণ বীরত্ব। আর এই বীরত্বকে গান্ধী খুঁজে পেলেন ভারত আত্মা থেকে। কারণ, ভারতবর্ষের হাজার হাজার বছরের ইতিহাসে, ভারত আত্মা প্রকাশিত মহাকাব্য বা দর্শনে যদি আমরা প্রবেশ করি তাহলে আমরা মহাভারত থেকে উপনিষদ সব খানে দেখতে পাই শান্তির জন্য, উন্নত আত্মার জন্য এক পরম আকুতি। হিংসা দ্বেষ থেকে বের হয়ে এসে শান্তির সপক্ষে এক দৃঢ় বা অবিচল মানবাত্মা সৃষ্টির আকাক্সক্ষা সেখানে। ভারত আত্মার এই অবিচল আত্মাকে বিংশ শতকে এসে শুধু ভারতবাসীর মধ্যে নয়, পৃথিবীর মানব সম্প্রদায়ের ভেতর সঞ্চারিত করলেন, মানব সম্প্রদায়কে প্রত্যক্ষ করালেন মহাত্মা গান্ধী। অহিংস-বীরত্ব কতটা মানসিক বল নিয়ে কতটা মানুষে মানুষে ঐক্য সৃষ্টি করে হিংসার বিরুদ্ধে এক অবিচল হিমালয় হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং তা কিভাবে সম্ভব- তা প্রয়োগ করে দেখালেন মহাত্মা গান্ধী। আর এখানেই মহাত্মা গান্ধীর বিশেষত্ব। আর এখানেই তিনি পৃথিবীতে নতুন বার্তাবাহক শুধু নন, নতুন বার্তা মানুষের কণ্ঠে তুলে ও মানুষকে দিয়ে সফল প্রয়োগ করানোর এক নেতা। এ কারণেই গান্ধীর হিংসার বিরুদ্ধে অহিংস এই নীতি, কাল থেকে কালান্তরে প্রবাহিত হবে। সভ্যতা ৭০ হাজার বছর ধরে যে পথ খুঁজে ফিরছিল বিংশ শতাব্দীতে এসে প্রথমে বর্ণ নিপীড়িত আফ্রিকায়, পরে রাজনৈতিক ও সামরিক দখলদারিত্বের ভারতবর্ষে সফল প্রয়োগের ভেতর দিয়ে মহাত্মা গান্ধী পৃথিবীর মানব সভ্যতাকে দিলেন শান্তির পথে হিংসাকে দমন করা, প্রতিরোধ করার এক মহান আদর্শ। আর এখানেই গান্ধী তার নিজ সীমানা ভারতবর্ষকে ছাড়িয়ে গেলেন। ছাড়িয়ে গেলেন তার সময়কে। তিনি পথ প্রদর্শক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেন ভবিষ্যত মানব সভ্যতার এবং মানুষের কাক্সিক্ষত শান্তির পৃথিবীর। তিনি নিজেকে উপস্থিত করলেন, কিভাবে রাজনৈতিক নেতা মানব সভ্যতার নৈতিকতার নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। গান্ধী তাই তার সময়ের জন্য ও ভবিষ্যতের জন্য রাজনীতিকে দিলেন এক নৈতিকতার কণ্ঠহার। যা হানাহানির পৃথিবীকে, যুদ্ধ উন্মাদ পৃথিবীকে শান্ত করতে ভবিষ্যত রাজনীতিকদের গলায় পরতে হবে। পৃথিবীর যেখানেই হিংসা, উম্মত্ততা সেখানেই অবলম্বন করা হয়, অন্তত শান্তিকামী নেতা ও তার মানুষেরা ধারণ করেন গান্ধীর অহিংস পথ। যে পথে শক্তি সীমাহীন। হিংসার বারুদ এক সময়ে রক্তের স্রোতে ভিজে যায়, কিন্তু অহিংসার ফুলের গায়ে রক্ত ছিটালে সে ফুল আরও বেশি মানুষকে প্রেরণা দেয়।

আমাদের এই পলল বদ্বীপ ভূমির বাংলাদেশ, আমাদের এই পরম প্রিয় বাংলাদেশের ভূ-খ-তে এক সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গান্ধী তার অহিংসার নীতিতে। আমাদেরও টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া অবধি তার আহ্বানে ‘অরন্ধনের’ ভেতর দিয়ে অহিংস শক্তি প্রকাশ পায়। তিনি ছিলেন তখন এ ভূ-খ-েরও বাপুজি। সত্য সাময়িক অসত্যের কাছে পরাজিত হয়। আমরাও ১৯৪৬-এ পরাজিত হয়েছিলাম। ভাই ভাইকে হত্যা করায়, পিতা পুত্রকে হত্যা করায় মেতেছিলাম আমরা। সেই উন্মত্ত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময়েও গান্ধী তার অহিংসতার শক্তি থেকে, এক বিন্দু সরে আসেননি। তিনি রক্তাক্ত নোয়াখালীতে এসে দিনের পর দিন কাটিয়েছিলেন, রক্তের দাগ মুছে দেবার জন্য। তিনি যে রক্তের দাগ মুছে দিতে পেরেছিলেন তা আমাদের ইতিহাসই পরবর্তীতে প্রমাণ করে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ মাত্র ২৪ বছরের মাথায় গিয়ে আমরা সাম্প্রদায়িক সামরিক শক্তির আধুনিক সমরাস্ত্রের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের গোটা মার্চ মাস করেছিলাম সফল এক অসহযোগ আন্দোলন। রাষ্ট্রের ওপর চেপে থাকা শোষক শক্তিকে, সমর শক্তিকে অহিংসার পথে কিভাবে দুর্বল করতে হয়, তাদেরকে মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে শক্তিহীন করতে হয়, গান্ধী সে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে ইংরেজ শোষক ও শাসককে দুর্বল করে, মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে তিনি দেখিয়েছিলেন কিভাবে রাজনীতিতে অহিংসা দিয়ে হিংসাকে দুর্বল করতে হয়। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে, আমাদের নেতা, বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুর ২৩ বছর পরে প্রমাণ করেন অসহযোগ কত বড় শক্তিশালী অস্ত্র শান্তির সপক্ষে। ২৬ মার্চ ১৯৭১, আমাদের স্বাধীনতা পাবার দিবস। আর এর আগে ৩ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ অবধি বাংলাদেশ কোন সশস্ত্র আন্দোলন করেনি। অহিংসার পথে অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে সমস্ত দেশের ক্ষমতা সেদিন বাংলাদেশের জনগণ নিজ হাতে নিয়ে নেয়। মানুষই সেদিন বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সর্বোচ্চ অহিংস পথেই দেশের স্বাধীনতার মাহেন্দ্র ক্ষণে পৌঁছে যায়। সেদিন বাঙালী সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছিল অহিংস পদ্ধতি কতটা শক্তিশালী। বাঙালীর সেদিনের অসহযোগ আন্দোলন দেখে ভারতের সর্বোদয় নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণ বলেছিলেন, পৃথিবীতে অসহযোগ আন্দোলনের সফল প্রয়োগ করলেন শেখ মুজিবুর রহমান। অর্থাৎ পৃথিবীর আরেক মহান নেতার ভেতর দিয়ে প্রকাশিত হলেন মহাত্মা গান্ধী। যুগ থেকে যুগান্তরে প্রবাহিত হওয়া আপন রক্তের ধারার মতো।

আমাদের এ ভূ-খ-ে গান্ধীর এই অহিংস মতবাদ, এই শান্তির পথে হিংসাকে প্রতিরোধ করার মতবাদ এ মুহূর্তেও প্রকাশিত হচ্ছে বাংলাদেশের সফলতম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাজের ভেতর দিয়ে। বাংলাদেশে এখন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা সব মিলিয়ে প্রায় তেরো লাখ। যার ভেতর প্রায় ৮ লাখ শরণার্থী এসেছে এক বছর ২ মাস। এরা বাংলাদেশে এসেছে রক্ত ও মৃত্যু পাড়ি দিয়ে। শুধু ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার শিকার হয়ে নয়, এখানে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতাকে সামনে রাখা হয়েছে। পেছনের রয়েছে বর্তমান বৈশ্য নিয়ন্ত্রিত পৃথিবীর নতুন অর্থনৈতিক শক্তি চীনের অর্থনৈতিক আগ্রাসন। সারা পৃথিবীতে এ মুহূর্তে অর্থনৈতিক আগ্রাসনের শিকার হয়ে কোটি মানুষ উদ্বাস্তু। লাখ লাখ মানুষকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাড়ি দিতে হয়েছে ইউরোপে। মহাত্মা গান্ধীর জম্মের দেড়শত বছরে এসে আমরা দেখছি পৃথিবীতে অর্থনীতি ও হিংসা নতুন ফরম্যাটে গাঁটছড়া বেঁধেছে। যার শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের মতো জনভারাক্রান্ত ছোট দেশও। তবে বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার সাফল্য এখানে যে, তিনি শান্তি ও ভালবাসা দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিষয়টি বিশ্ব ফোরামে নিয়ে গেছেন। সমকালীন পৃথিবীতে শান্তির সপক্ষের এ এক অনন্য নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত। এই শান্তির শক্তির কাছে, অহিংস শক্তির কাছে পরাভব মেনে চীন এখন বলছে রোহিঙ্গা বিষয়টি বিশ্ব ফোরামে না তোলার জন্য। যার ভেতর দিয়ে প্রমাণিত হচ্ছে, শেখ হাসিনার এই শান্তির নীতির কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে পরাক্রান্ত অর্থনৈতিক শক্তি চীন। শেখ হাসিনার এ বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়া মূলত বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা গান্ধীর অহিংস পথে যাত্রা। যার ভেতর দিয়ে প্রমাণিত হয় পৃথিবীর শোষণের, হিংসার রূপের পরিবর্তন যতই হোক না কেন, অহিংস শক্তিতে, শান্তির পথে তাকে পরাভূত করা সম্ভব। আর এখানেই প্রমাণিত হয় মহাত্মা গান্ধী কাল থেকে কালান্তরে থাকবেন অহিংসার পথের চির জাগরূক এক পথ প্রদর্শক হিসেবে।