ভুয়া সাংবাদিকদের প্রতারণার ফাঁদ

1685
শাহাদাৎ
শাহাদাৎ

শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া

সারা দেশে ‘ভুয়া মানবাধিকার কর্মি আর ভূয়া সাংবাদিক’দের দৌরাত্ম্য অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে চরমে পৌঁছেছে। ভুয়া সাংবাদিকেরা বিভিন্ন প্রতারণার ফাঁদ পেতে এবং তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য-সমর্থকরা নিজেদেরকে ‘মানবাধিকার সাংবাদিক’ পরিচয় দিয়ে নিরীহ লোকজনকে নানাভাবে হয়রানি করছে বলেও বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।

নারায়ণগঞ্জে এক হিসেবে প্রায় দেড় হাজার সাংবাদিক রয়েছে বলে প্রশাসনের তথ্যে বলা হয়েছে। তবে সংবাদের সাথে জড়িত সাংবাদিক খুঁজতে বেরিয়ে হাতে গোনা কয়েক জনের দেখা মেলে। ‘তবে ওরা কারা?’ এভাবেই চলবে আগামী দিন। নিয়ন্ত্রণহীন সাংবাদিক পরিচয়দাতাদের লাগাম টেনে ধরতে নেই প্রশাসনে লক্ষনীয় কোন ভূমিকা। সাধারন মানুষ ও পেশাদার সাংবাদিকদের বহুদিনের দাবী যারা সংবাদের সাথে জড়িত নয় অথচ সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে প্রকৃত সাংবাদিক খুজে পাওয়া দুষ্কর হবে।

 

সাংবাদিক পরিচয়ে এরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জমি দখল, দোকানপাট দখল, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত হয়ে পড়ছে। এই চক্রে বিতর্কিত নারী সদস্যও থাকেন। এরা খ্যাত-অখ্যাত একাধিক গণমাধ্যমের ৪/৫টি আইডি কার্ড বুকে পিঠে ঝুলিয়ে- মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ‘প্রেস’ কিংবা ‘সংবাদপত্র’ লিখে দাপিয়ে বেড়ায় সর্বত্র। তারা মূলত পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি’র সোর্সের দায়িত্ব পালনেই বেশি ব্যস্ত। ভূয়া সাংবাদিক আর কথিত মানবাধিকার কর্মিদের নানা অপকর্মের কারণে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি এখন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

 

ভূয়া সাংবাদিক তৈরির কারখানা আবিস্কৃত হয়েছে মিরপুর ও উত্তরায়। কাওরানবাজার সিএ ভবনের লিফটম্যান নানা নামে ভূইফোড় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বানিয়ে শুধু মিরপুরেই তিন শতাধিক সাংবাদিক নিয়োগ দিয়েছেন। তাদের সমন্বয়েই তিনি গড়ে তুলেছেন “সাংবাদিক কল্যান-অপারেটিভ লিঃ” ও “ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাব” নামের কথিত দুটি সাংবাদিক সংগঠন। মুছকান টিভি নামে এক ইউটিউব চ্যানেলের আওতাতেও বৃহত্তর মিরপুরে দুই শতাধিক সাংবাদিক কার্ড বিতরণ করার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে মাদক ব্যবসায়ী, সেলুন কর্মি, চা-বিক্রেতা, পরিবহন হেলপার, মাছ-সবজি বিক্রেতাসহ যে কোনো পেশার মানুষ, নাম লেখার যোগ্যতা থাকুক আর না থাকুক ন্যূনতম এক হাজার টাকা জমা দিয়েই ‘ক্রাইম রিপোর্টার’ পদবীযুক্ত আইডি কার্ড পেয়ে যাচ্ছেন।

বৃহত্তর উত্তরা জুড়ে আরো ভয়াবহ অবস্থা চলছে। সেখানে অবস্থানরত একজন সিনিয়র সাংবাদিক জানিয়েছেন, উত্তরা এলাকায় অন্তত পাঁচশ ভূয়া সাংবাদিক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সাংবাদিক ও মিডিয়ার নাম ব্যবহার করে এক ডজনেরও বেশি ক্লাব-সংগঠন গড়ে উঠেছে। মূলধারার সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কেউ সংযুক্ত না থাকলেও নিজেরাই একাধিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল খুলে সাংবাদিক-সম্পাদক বনে যাচ্ছেন। তাদের অনলাইন পোর্টালে যা ইচ্ছে তাই লিখে দিচ্ছেন-যাকে খুশি তার পক্ষে লিখছেন আবোল তাবোল। চাঁদা না পেলেই ডুবিয়ে দিচ্ছেন। এসব অনলাইন পোর্টালগুলো আবার পত্রিকা আকারে প্রিন্ট করেও লিফলেটের মতো ছড়িয়ে দেন তারা।

 

উত্তরায় কতিপয় ভূয়া সাংবাদিক নিজের স্ত্রী-শ্যালিকাকে সঙ্গী করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হাজির হন। নানা অভিযোগ তুলে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা প্রদানে অস্বীকার করলেই সঙ্গে নেয়া স্ত্রী কিংবা শ্যালিকাকে বাদী বানিয়ে প্রথমে জিডি করেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন অধ্যাদেশে মামলা রুজুর ভয় দেখিয়ে, মানববন্ধন করার হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে সমঝোতা করে থাকেন। তাদের নতুন কৌশলের এ ধান্ধাবাজির কবলে পড়ে বহু মানুষ সীমাহীন হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।