পুলিশের টুপি দিয়ে বখরা আদায়

6102

এএসআই আনোয়ারের বছরে ৪ কোটি টাকা অবৈধ আয়

নারায়ণগঞ্জ অফিস
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের শিমরাইল পুলিশ বক্সে এএসআই হিসেবে কর্মরত আনোয়ারের বছরে অবৈধ আয়ের পরিমান ৪ কোটি টাকা। তাকে পরিবহন মালিক শ্রমিকগন রেকার আনোয়ার হিসেবে চেনেন। সম্প্রতি অভিনব কায়দায় অটোরিক্সা চালকদের বখরার বিনিময়ে পুলিশের টুপি দেয়ার রীতি চালু করেছেন তিনি। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি শিমরাইল মোড়ে একই বক্সে কাজ করছেন। গড়েছেন বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ। তার এসব অপকর্মের বৈধতা দেন নারায়ণগঞ্জ পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই এডমিন) তসলিম হোসেন।
একাধিক অটোরিক্সা চালক জানিয়েছেন, আনোয়ার দৈনিক শতাধিক অটোরিক্সা সিদ্ধিরগঞ্জের বিদ্যুৎ অফিসের সামনে থেকে আটক করেন। তার রয়েছে ১০ সদস্য বিশিষ্ট ইয়াবা খোর বাহিনী। যারা বিদ্যুৎ অফিসের সামনে থেকে অটোরিক্সা ধরে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর কাঁচপুর ব্রীজের তীরবর্তী সাজেদা হাসপাতালের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে এএসআই আনোয়ার ও এএসআই শাহজাহান বসে থাকেন। তারা রেকার বিল ও বিভিন্ন জরিমানার অজুহাতে সাপ্তাহিক বখরা আদায় করেন। যারা বখরা দিতে রাজি হন তাদেরকে ওই দুই কর্মকর্তা একটি করে পুলিশের টুপি উপহার দেন। এ জন্য অটোরিক্সা চালকদের সপ্তাহে দিতে হয় ৫ হাজার টাকা। যারা বখরা দেন না তাদের অটোরিক্সা জব্দ করা হয়। কখনো ব্যাটারী খুলে নষ্ট করা হয়। কখনো মারধর করা হয়। বাধ্য হয়েই তারা বখরা দিতে রাজী হয়ে যান।
তারা কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, আমরা মহাসড়কে রিক্সা নিয়ে যাই না। বিদ্যুৎ অফিসের সামনে থেকেই আমাদের ধরে নিয়ে যায় ইয়াবা খোর বাহিনী। তারা সকলেই আনোয়ারের লোক। অথচ ইজিবাইক চলে বীরদর্পে। তাদের কোন সমস্যা হয় না। তারা থানা ও ট্রাফিক দুই জায়গায় টাকা দেয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আনোয়ার দৈনিক ২০ টি গাড়ি থেকে ৫ হাজার টাকা করে আদায় করে থাকেন। ফলে দিনে তার আয় ১ লাখ টাকা। মাসে তার আয় ৩০ লাখ টাকা। বছরে তার আয় ৩ কোটি ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া মহাসড়কের অন্যান্য যানবাহন থেকে তার আরও আয় রয়েছে। তিনি আরও জানান, আনোয়ারের সকল অপকর্মের বৈধতা দিয়ে থাকেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের টিআই তসলিম হোসেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিমরাইল ট্রাফিক বক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক (টিআই) শরীফ হোসেন বলেন, এমনটা হওয়ার কথা না। চাঁদাবাজি করে পুলিশের টুপি উপহার হতেই পারে না। আমি আনোয়ারের সাথে কথা বলে দেখছি।
জানতে চাইলে এএসআই আনোয়ার বলেন, এত কথা কইয়া লাভ কি? নিউজ করবেন? করেন!