নারায়ণগঞ্জ গাবতলীতে জয় বাংলা নাগরিক কমিটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

75
নারায়ণগঞ্জ গাবতলীতে জয় বাংলা নাগরিক কমিটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
নারায়ণগঞ্জ গাবতলীতে জয় বাংলা নাগরিক কমিটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ভূঁইয়া কাজল, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ গাবতলীত লুৎফর রহমান সড়কে জয় বাংলা নাগরিক কমিটির অফিসে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিতি হয়েছে। এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জয় বাংলা নাগরিক কমিটির সম্মানিত উপদেষ্ঠা হুমায়ুন কবির, সাথে ছিলেন আরও ৬ জন যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মোস্তাক আহাম্মেদ, মিতা প্রধান, শফিকুল ইসলাম আরজু, সেলিনা সুলতানা, খাজা মামুন, ইমরান মোহাম্মদ রুমান। সম্মান যিনি পাঠ করেছেন তিনি হলেন জোনায়েত আল-জুম্মন। জয় বাংলা নাগরিক কমিটির এই সংবাদ সম্মেলন পাঠের মাধ্যমে জাতীয় ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সমসার কথা উঠে এসেছে, যার জন্য দায়ী নারায়ণগঞ্জের বর্তমান মেয়র। পাঠের মাধ্যেমে বলেন আজ একুশে আগষ্ট গ্রেনেট হামলার দিন, নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের। আগষ্টের আর্তনাদ এখনো নিরবে কাঁদে। বার বার সেই ১৫ই আগষ্ট এর কথা আমাদের মনে করিয়ে দেয়। যেখানে ২০০৪ সালে ২১ শে আগষ্টে গনতন্ত্রের মানুসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে পর্যন্ত হত্যা করতে চেয়ে ছিলেন সেই বিরোধী শক্তিরা, আজ সেই বিরোধী শক্তিকে নিয়ে তার নারায়ণগঞ্জে পথ চলা। সংবাদ পাঠের মাধ্যেমে আরও উঠে আসে রাজনৈতীক অপশক্তিকে রুখে দিয়ে শেখ হাসিনা দেশের সেবিকা হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ৭ মার্চের ভাষনে বঙ্গবন্ধু দরাজ কণ্ঠ দিয়ে বাংগালি জাতিকে একাট্টা করার সময়েও দীপ্ত উচ্চারনে থেকে বলেছিলেন জয় বাংলা আমাদের জাতীয় স্লোগান, তাই আমরা সেই জয়বাংলা স্লোগান নিয়ে নারায়ণগঞ্জে এগিয়ে যাব। আমাদের নারায়ণগঞ্জ শহর রক্ষার আন্দলনে জয় বাংলা নাগরিক কমিটি ইতোমধ্যে আত্ম প্রকাশ করেছে। পাঠের মাধ্যমে আরও বলেন শুষ্পষ্ট ভাবে বলা হচ্ছে এই পরিক্রমাকে কেহ “সংগষ্ঠন” বলে চালাতে যাবেন না। সংবাদ পাঠে বলেন এটা একটা কমিটি, এই কমিটির কাজ হলো নারায়ণগঞ্জ শহরের জন্য করনীয় দিক নিয়ে শুপারিশ করা। সংবাদিকদের সামনে পাঠের মাধ্যেমে উঠে আসে জয় বাংলা নাগরিক কমিটি মনোনীত কোন ব্যাক্তি বিশেষকে যদি আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়ে থাকে তবে ধরেই নিতে হবে এই নারায়ণগঞ্জ শহর ক্রেন্দ্রিক বাসিন্দাদের নাগরিক অধিকার আদায় কল্পে ওই মেয়র প্রার্থীকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। তেমন উদ্যোগ থেকেই ২০১৯ সাল থেকেই আমরা জনাব কামরুল ইসলাম বাবুকে বলে আসছিলাম যে, আপনি প্রার্থী হতে পারেন। জয় বাংলা নাগরিক কমিটি আপনার সাথে একমত পোষন করবে। কারন আপনি নিদিষ্ঠ কোন দলের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও আপনি মুক্তিযোদ্ধে চেতনাধারী ব্যক্তিসত্তা। আপনি বঙ্গবন্ধু পাগল একজন মানুষ। তিনি ২০২১ সালের দিকে এসে আসন্ন নাসিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যা জয় বাংলা নাগরিক কমিটিকে সস্তি দিয়েছে। জয় বাংলা নাগরিক কমিটিও আশা আখে নারায়ণগঞ্জে হাজারও সমস্যার সমাধান কামরুল ইসলাম বাবুই দিতে পারবে। জয় বাংলা নাগরিক কমিটি সত্যিকারের আধুনিক নগর হিসাবে নারায়ণগঞ্জ কে দেখতে চায়। সংবাদ পাঠে আরও বলেন আমাদের এই পথ চলায় তিনটি আবেগময় বাস্তবতা রয়েছে Ñ (১) মুক্তিযোদ্ধের চেতনা, (২) বঙ্গবন্ধু আদর্শ এবং (৩) শেখ হাসিনার উন্নত নেতৃত্ব। সংবাদ সম্মেলনে নাসিক বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াত আইভিকে উদ্যোশ করে বলেন দুঃখজনক হলেও সত্যি নারায়ণগঞ্জ বর্তমান মেয়র হিসাবে যিনি রয়েছেন তিনি তিনটি আবেগকে ধারন করতে পারেন নাই, পারছেন না। তিনি যদি সত্যিকার অর্থে মুক্তিযোদ্ধকে ধারন করতেন, তাহলে কেন তার সাথে স্বাধীনাত বিরোদ্ধ শক্তি এবং রাজনৈতীক অপশক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বি.এন.পি ব্যক্তি বিশেষদের সাথে তার সম্পর্ক থাকবে? কেন তাদেরকে প্রশ্রয় ও আশ্রয় দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান? কেন তার সাথে বেগম খালেদা জিয়ার সম্পর্ক থাকবে? কেন তার মাধ্যেমে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপির জামায়াতের কাউন্সিলর পদ প্রার্থীরা বুক ফুলিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে চলবে, এই যে আমরা নির্বাচিত কাউন্সিলর, কেন? এসব জবাব তিনি দিতে পারবেন না। সংবাদ পাঠে আরও বলেন তিনি কি সত্যিই বঙ্গবন্ধুকে ধারন করেন? তার আদর্শকে লালন করেন? যদি তাই হতো তবে কেন তিনি এতটা সময় পেয়েও নারায়ণগঞ্জ কে বদলে দিতে পারেন নাই? এই শহর এখনও একটা অপরিচ্ছন্ন শহর, এই নগরিতে একটু বৃষ্টি হলেও জলাব্দতা শহর হয়ে যায়। এই প্রাচীন শহরের কৃষ্টি বিলপ্তি পথে হেটে যেয়ে এখন মাদকময় ছোবলে ঝুলে থাক একটি শহর, যে শহর নিশিতে কান্না করে, এই শহর সবুজ ময় হয়ে উঠেনাই। ক্ষমতার দাপট দেখাতে যেয়ে এখানে সাত খুন হয়ে গেলেও তিনি দিব্যি আছেন, সুখে আছেন। সংবাদ সংম্মেলনে আরও বলা হয় বর্তমান মেয়রের সবচাইতে বড় অহংকার হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তিনি দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও সম্মান করতে পারছেন না। সূত্র বলছে, তিনি অহংকার নিয়ে বলে থাকেন নারায়ণগঞ্জে শেখ হাসিনা আমার সাথে নির্বাচনে প্রতিদন্দিতা করলেও পাশ করতে পারবেন না। তিনি আশলে কার লোক? কোন দলের নেত্রী এসব কথা বার বার মনে করিয়ে দেয়। তাই আমরা যুক্তি সংগত ভাবেই নাসিক মেয়র হিসাবে সেলিনা হায়াত আইভির পদতেগের জন্য কিছুটা সময়ও দেয়া উচিত বলে মনে করেন জয় বাংলা নাগরিক কমিটি। তাই শুভ বৃদ্ধির উদয় ঘটিয়ে তিনি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নিক। আমরা সে পর্যন্ত অপেক্ষা করব। যদি তিনি ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করেন, তবে ১৬ সেপ্টেম্বর আমরা বড় ধরণের আন্দোলনের ডাক দেব। যার মধ্যে হরতালও একটি অধ্যায়। অন্যদিকে গুলোও আছে। কারণ, নগরবাসী পরিবর্তনের জন্য উন্মখ হয়ে আছে। তাঁর পদত্যাগ চায় এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনও চায়। এমন তিনটি অনিবার্য দাবীতে ২৩ আগষ্ট চাষাড়া চত্বরে অনশন কর্মসূচী পালনে থাকা হবে। সকালের নাশতা না খেয়ে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষকে প্রত্যাশা করে নয়, জয় বাংলা নাগরিক কমিটির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির নেতাকর্মীরা সেই অনশনে যোগ দিবে। সেখানে সাধারণ মানুষেরা যোগ দিলেও তা এক ধরণের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।