দশমিনায় ৫০ বছরেও বেড়িবাঁধ নির্মান হয়নি

34
দশমিনায় ৫০ বছরেও বেড়িবাঁধ নির্মান হয়নি
দশমিনায় ৫০ বছরেও বেড়িবাঁধ নির্মান হয়নি

জোয়ারে ডুবছে ও ভাটায় জেগে উঠছে চরাঞ্চল
নাসির আহমেদ, দশমিনা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর বুক চীরে জেগে ওঠা চরাঞ্চলে দীর্ঘ ৫০ বছরেও নির্মান করা হয়নি বেড়িবাঁধ। উপজেলা সদরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরবোরহান,চরশাহজালাল ,চরহাদী,লালচর, চরফাতেমা, চরবাশবাড়ীয়া, চরআজমাইনে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। দীর্ঘ ৫০ বছর আগে দশমিনার চরাঞ্চলে জনবসতী গড়ে ওঠার পড় থেকে চরাঞ্চলের মানুষ বেড়িবাধের জন্য সভা সমাবেশ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্বারকলিপি সহ বিভিন্ন ভাবে আবেদন নিবেদন করলেও বেড়িবাধ তৈরির কোন উদ্দ্যেগ গ্রহন করা হয়নি। বেড়িবাঁধ না থাকায় নদীর জোয়ারের পানি ঢুকে দশমিনার চরাঞ্চলে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার ফসল হানি ঘটছে। দীর্ঘ ৪০ বছরে চরাঞ্চলে কৃষি,শিক্ষা,চিকিৎসা, বিদ্যুৎ ও মানুষের জীবনমান কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও এখনো বর্ষা মৌসুমে জোয়ারে ৩/৪ ফুট পানিতে ডুবে থাকে আর ভাটায় ভেসে ওঠে চরাঞ্চল। বর্তমানে দশমিনার চরাঞ্চলে ১৪টি প্রাথমিক ও তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বর্ষা মৌসুমে নৌকায় করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। চর শাহজালালের কৃষক মোকলেছ হাওলাদার (৫২) জানান, চরাঞ্চলে বেড়িবাধ না থাকায় ফসলের ক্ষেতে জোয়ারের পানি ঢুকে প্রতি বছর হাজার হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। চর শাহজালালের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ খলিলুর রহমান জানান, ঘূর্নিঝড় ইয়াস এর জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের থেকে ৩/৪ ফুট বেশি হওয়ায় শত শত বাসা বাড়ি তলিয়ে রয়েছে। তিনি জানান, বেড়িবাধ না থাকায় প্রতিবছর ঝড় বন্যা জলোচ্ছাসে চরাঞ্চলের মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বেড়িবাধের অভাবে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেচে থাকতে হচ্ছে চরের মানুষকে। বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান জানান, বেড়িবাধ নির্মানের দাবীতে চরাঞ্চলের কৃষকদের সাথে নিয়ে দীর্ঘ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। তিনি জানান, চরাঞ্চলের মানুষের এখন প্রানের দাবী হয়ে উঠেছে বেড়িবাধ। চরবোরহান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজির আহমেদ সরদার জানান, উপজেলা পরিষদের সভায় একাধিকবার চরাঞ্চলে বেড়িবাধ নির্মানের দাবী জানিয়েছি। তিনি আরো জানান, চরাঞ্চলের মানুষের এখন একটাই দাবী ত্রান নয় বেড়িবাধ চাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল কাইয়ুম জানান, চরাঞ্চলে বেড়িবাধ নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য এস,এম শাহজাদা জানান, দশমিনার চরাঞ্চলে বেড়িবাধ তৈরির জন্য ডিও লেটার সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।