দশমিনায় বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক

82
দশমিনায় বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক
দশমিনায় বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক

নাসির আহমেদ, দশমিনা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বৃষ্টির পানিতে রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরীতে ব্যস্ত কৃষকরা। বীজতলা তৈরীর জন্য মাঠে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। তারা বীজতলা তৈরীর নির্ধারিত উচু স্থানে বীজের চারা উৎপাদনের জন্য কাজ করছেন। এদিকে কৃষকরা কিছুদিন আগেই তাদের উৎপাদিত বোরো ধান ঘরে তুলেছেন। বেশ কিছুদিন বিশ্রাম শেষে আবারও মাঠে নেমেছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ১৩হাজার ১শ’ ৪২ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে রোপা আমন ধান চাষের বীচতলা তৈরিতে ব্যস্ত কৃষকরা। কিন্তু চলতি মৌসুমে সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় রোপা আমনের বীজতলা তৈরিতে একটু বিলম্ব হয়েছে কৃষকের ।
উপজেলার দশমিনা, বাঁশবাড়িয়া, বহরমপুর, বেতাগী সানকিপুর ও আলীপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কৃষকরা রোপা আমন ধান চাষের জন্য পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে বীজতলা তৈরী ও বীজতলায় ধান রোপন করছেন কেউ বা ধান চাষের জমি প্রস্তুত করছেন। এ সময় শত ব্যস্ততা দেখেও কথা বলতে চাইলে উপজেলার দক্ষিন দাসপাড়া গ্রামের ধান চাষী সংকর চন্দ্র শীল বলেন, প্রতিবছর এই সময় আমাদের ধানের বীজ বড় হয়ে যায়। আর শ্রাবণ মাসের শুরু থেকে মাঠে মাঠে রোপা আমন ধান রোপন শুরু হয়। কিন্তু এই বছর সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় আমরা ধানের বীজতলা তৈরি করতে পারি নাই।
বিগত কয়েক দিনে একটু বৃষ্টি হওয়ায় বীজতলায় ধানের চারা দিচ্ছি। বগুড়া গ্রামের ধান চাষী মো. ইউনুছ তালুকদার বলেন, সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় এবছর ধান চাষ পিছিয়ে গেছে। কাটাখালী গ্রামের ধান চাষী রফিক হোসেন বলেন, আমাদের এই অঞ্চলের প্রায় কৃষকই বর্গা চাষী এদের নিজের জমি নেই, এনজিও থেকে সুদে ঋণ নিয়ে অন্যের জমি কট কওলা ও একসনা নিয়ে চাষ করা হয়ে থাকে। এমনিতেই যে টাকা খরচ করে ধানের চাষ করা হয় ধান বিক্রয় করে সে টাকা আয় হয় না। আমরা আষাঢ়ের বৃষ্টির পানিতেই বর্ষা মৌসুমের রোপা আমন ধানের চাষ করে থাকি।
এই ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাফর আহম্মেদ বলেন, প্রতিটি এলাকাতেই কৃষকরা বীজ তলা তৈরীর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এ বছর বৃষ্টিপাত একটু দেড়িতে শুরু হলেও চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষমাত্র পুরণ হবে বলে তিনি মনে করছেন।