দশমিনায় নদীতে জাল ফেলে হতাশ জেলেরা

100
দশমিনায় নদীতে জাল ফেলে হতাশ জেলেরা
দশমিনায় নদীতে জাল ফেলে হতাশ জেলেরা

জেলের মুখ মলিন
নাসির আহমেদ, দশমিনা (পটুয়াখালী)
মা ইলিশ সংরক্ষণে ইলিশ শিকারে দীর্ঘ দুইমাস নিষেধাজ্ঞা শেষে পটুয়াখালীর দশমিনা তেঁতুলিয়া-বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে ইলিশ শিকারে নেমে জেলেরা হতাশ হচ্ছেন। আশানুরূপ মাছ না পেয়ে তাদের কষ্টই বৃথা হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার গোলখালী মৎস্য ঘাট ও বাঁশবাড়িয়া ঘাটসহ হাট-বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর পাড়ে অনেক জেলে বসে আছেন। কেউ মাছ ধরতে জাল নিয়ে নদীতে যাচ্ছেন। আবার কেউ জাল ফেলে তেমন মাছ না পেয়ে নদীর পাড়ে চুপচাপ বসে আছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে যেখানে জালভর্তি মাছ পেয়ে জেলেদের মুখে সব সময় হাসির ঝিলিক লেগে থাকার কথা, সেখানে জেলের মুখ হয়ে আছে মলিন। কারণ, নদীতে ইলিশ শিকারের আয়োজনে তাঁদের খরচের টাকাই উঠছে না।

আরও পড়ুনঃ

ঘূর্ণিঝড় ফানি: তুষারের মতো মহাসাগর ভারত উপকূলে চলে আসে

ডেমরায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাত ইউনিয়নে কার্ডধারী ১০হাজার ১শ’ ৭১জন রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতের জেলে। আর সরকারি সাহায্য সহযোগীতার আওতায় ভিজিএফ’র ৬হাজার জেলে সমুদ্রগামী । সমুদ্রগামী জেলেরা নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ শিকার থেকে বিরত থাকার জন্য ৪০কেজি করে ভিজিএফ’র চাল বিতরন করা হয়েছে।
উপজেলার গোলখালী এলাকা থেকে সোমবার মধ্যরাতে মাছ ধরতে নদীতে নামেন জামাল হোসেনসহ চার জন এক নৌকায়। রাতে তিনটি ‘খেও’ (জাল ফেলে) দেওয়ার পর অল্প কিছু পোয়া মাছ ও রাম ছোর পেয়ে ঘাটে এসে নোঙর করে দুরচিন্তায় বসে আছে। জামাল বলেন, অভিযান (নিষেধাজ্ঞার) সময় আমরা নদীতে মাছ ধরতে যাইনায়। ওই সময় গেলে মাছ বেশি পাইতাম। অভিযান (নিষেধাজ্ঞা) শেষে নদীতি নামি দেহি কোনো মাছ নেই। রাতভর তিন খেপ দিয়া মাত্র ৭-৯কেজি পোয়া আর ছোর মাছ পাইছি । তাও সব ছোট মাছ আর ১৮০টাকা কেজি দরে বেঁচিছি । কি আর করমু। মনডা বেশি ভালা নাই। তাই চুপচাপ বইসা আছি।’
বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মাছ ধরতে আসা শাহ আলম খাঁ, জাহাঙ্গীর ও লাল মিয়াসহ আর প্রায় শতাধিক জেলে হতাশার সুরে বলেন, ‘নৌকা নামাতে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কেই গরু-বাছুর বিক্রি করে আর কেউ ঋন নিয়ে জাল-নৌকা নামাইছি। তয় নদীতে কোথাও মাছ নাই। গেল বছর প্রতি খেয় ২০-৩৫ কেজি কইরা বিভিন্ন প্রজাতের মাছ পাইছি। এবার দুই খেও দিইয়া মাত্র ৫কেজি মাছ পাইছি।’ তারা আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে যেখানে জালভর্তি মাছ পেয়ে জেলেদের মুখে সব সময় হাসির ঝিলিক লেগে থাকার কথা, সেখানে অধিকাংশ জেলের মুখ ছিল মলিন। কারণ, নদীতে ইলিশ শিকারের আয়োজনে তাঁদের খরচের টাকাই উঠছে না। বাজারে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে অনেক ইলিশ ধরা পড়বে ভেবে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন কিনতে এসেছেন বাজারে। না পেয়ে তাঁরা হতাশ মুখে ফিরে যাচ্ছেন। অধিকাংশ মাছের আড়ৎ ঘরের সামনে ডালায় সামান্য কিছু মাছ দেখা যায়। ক্রেতাদের ভিড়ে মাছের বাজারও বেশ চড়া। মৎস্য ব্যবসায়ী বাঁশবাড়িয়া ঘাটে মিরাজ খাঁ বলেন, ‘অন্যান্য বছর নিষেধাজ্ঞা শেষে অনেক ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতের মাছ ধরা পড়ত। গত বছর অনেক মাছ বেচাকেনা করেছি। অভিযানের সময় কেউ কেউ লুকিয়ে মাছ ধরেছে। মৎস্য বিভাগ বা প্রশাসনের হাতে ধরা পড়েছে অনেকে। অভিযান শেষে ভালো মাছ ধরা পড়বে এই আশায় অনেকে ধারদেনা হয়ে জাল ও নৌকা নামিয়েছে। নদীতে নেমে মাছ না পেয়ে আমরা হতাশ হচ্ছি।’
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহাবুব আলম তালুকদার বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নদীতে মাছের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম। আর নিষেধাজ্ঞাকালে ৬২লক্ষ ৯২হাজার ৫০মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, ছোট-বড় ১শ’ ৭টি বেহেন্দী জাল আটক, গলধা চিংড়ির রেনু ১লক্ষ ৩৫হাজার ও ১হাজার ৫৮কেজি জাটাক জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারকের নির্দেশে মাছ উপজেলার বিভিন্ন এতিম খানাসহ অসহায় ও গরিবের মাঝে বিতরন, অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়ে ফেলা ও গলধা চিংড়ির রেনু নদীতে উন্মুক্ত করা হয়।