তিন দিনেই তৈরী হচ্ছে মটরচালিত রিক্সা চালক

786
শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া
দিনে দিনে শহরের অলিতে গলিতে রিক্সা চালকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দেশের দুর্গম অঞ্চল থেকে এসেই চালাতে শুরু করে তিন চাকার বাহন। গাড়ি হাতে পেয়েই উড়তে শুরু করে সড়কে। রাস্তায় মানুষকে দেখার কোন সুযোগ নেই তাদের। সুযোগ পেলেই ঢুকে যাচ্ছে এদিক সেদিক। তুলে দিচ্ছে পথচারীদের উপর। কারো হাত কাটছে কারো পা কাটছে। কোন কিছু তোয়াক্কা করছে না তিন চাকার উড়োজাহাজের চালকেরা। রিক্সা চালানোর জন্য লাগে না কোন ধরনের লাইসেন্স। দরকার হয় না কোন চালকের প্রশিক্ষন। অজ্ঞ রিক্সা চালকদের নিয়ে মাথা ব্যাথা শুধু কি সাধারন মানুষের?
গতকাল রাস্তায় চলতে গিয়ে দেখা এক মহিলার গায়ের উপর উঠিয়ে দিয়েছে রিক্সা। অন্যজন বলেন, রাস্তায় রিক্সা কোন কোন সময় গাড়ির আগে চলে যাচ্ছে। ইঞ্জিন চালিত গাড়ির সাথে পাল্লা দিয়ে রিক্সা চালায় তারা। পুরনো কোর্টের নতুন ভবনের সামনে ট্রাফিক সিগন্যাল দিল দাঁড়াতে। সব গাড়ি দাঁড়িয়ে গেল। এমন সময় একটি রিক্সা এসে সজোরে ধাক্কা দিলো দাঁড়ানো একটি মটর সাইকেলের পিছে। মটর সাইকেল আরোহী তরুন ছিটকে পড়লো গাড়ি থেকে। তার হাত পা কেটে গেছে। একজন বললেন, তিনি একদিন তার গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন বিবি রোডে। হঠাৎ পেছন থেকে রিক্সা এসে সজোরে ধাক্কা দিলো গাড়ি পেছনের বাম্বারে। তিনি গাড়ি থেকে নেমে দেখেন গাড়ির মোটা বাম্পারে এক ইঞ্চি পরিমান দেবে গেছে। তারা যেভাবে রিক্সা চালায় তাতে কোন মানুষকে আঘাত করলে তার আর বেঁচে থাকার কোন উপায় নেই।
রিক্সা চলাচলে ট্রাফিক বিভাগে আইন থাকলেও সেই আইনের প্রয়োগ নেই। ট্রাফিক পুলিশ সদস্য সামনেই বীর দর্পে চলাচল করছে পিপীলিকার ন্যায় হাজার হাজার রিক্সা। রিক্সা চালকরা কোন আইন মানেনা। এর প্রথম কারন হলো অজ্ঞতা। দ্বিতীয় কারন হলো ইচ্ছাকৃত। প্রতিটি সড়কে রাস্তায় চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায়। ট্রাফিক পুলিশের সামনেই তারা যেমন ইচ্ছা তেমন করে রিক্সা চালায়। অনেক সময় ট্রাফিক পুলিশ এদের দেখেও না দেখার ভান করে থাকে।
সড়কে রিক্সা দৌরাত্ম বেড়েই চলার পেছনে কি শুধুই রিক্সা চালকদের ভূমিকা রয়েছে। না এদের ছাড়াও রিক্সার মালিকদের রয়েছে সবচেয়ে বড় ভূমিকা। সূত্র জানায়, মাত্র সত্তর হাজার টাকার বিনিময়ে তৈরী হচ্ছে একটি ব্যাটারী চালিত রিক্সা। দৈনিক একটি রিক্সা থেকে মালিকের আয় হচ্ছে তিনশ টাকা। মাত্র দুইশ তিশ দিনে একটি গাড়ির টাকা উঠে আসছে। এর ফলে ঝাঁকে ঝাঁকে রিক্সা তৈরী হয়ে রাস্তায় নামাচ্ছে কয়েকটি সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই চলছে এসব রিক্সা গ্যারেজ। তাদের রয়েছে বিশাল একটি চক্র। দিনে দিনে রিক্সায় ব্যবহার করা হচ্ছে অধিক শক্তিশালী মটর। এর কারন শক্তিশালী মটরগুলো অনেক দিন পর্যন্ত নষ্ট হয় না। বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। মেরামতের প্রয়োজন তেমন একটা হয় না। এ সুযোগে এসব শক্তিশালী মটর দাপিয়ে বেড়ায় রিক্সা চালকগন। অধিক গতিতে রিক্সা চলার মটর ব্যবহার করা হলেও তেমন শক্তিশালী গতিরোধের কোন ব্যবস্থা নেই এ বাহনগুলোতে। সরু টায়ারের উপর হাল্কা রবারের তৈরী একটি টুকরোতেই গতিরোধ করতে হয়। ফলে অজ্ঞ রিক্সা চালকগন উচ্চ গতিতে রিক্সা চালালেও প্রয়োজনে বাহনের গতিরোধ করতে পারে না। ফলে যেখানে সেখানে যখন তখন সংগঠিত হয় দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় কারো হাত কেটে যায় কারো পা কেটে যায়। উত্তেজিত লোকজন জড়ো হয়ে দুই হাত মেরে দেয়। ফের রিক্সা চালক সব ভূলে গিয়ে ফের উড়তে থাকে শহরের সড়কে।
সম্পাদক
বাংলা সংবাদ