জামায়াত শিবিরের বিপরীতে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির অবস্থান

855

স্বদেশ রায়

পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধিতা করলেও পাকিস্তানি রাজনীতিতে জামায়াত ইসলাম ও তাদের ছাত্র সংগঠন রাজনৈতিক দল ও শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলো। যে কারণে আইয়ুব খানের শাসনের বিরুদ্ধে ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি (ডাক) গঠিত হলে সেখানে জামায়াতে ইসলামী ছিলো। তবে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা দেবার পরে যখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশ সৃষ্টির রাজনীতি শুরু হয় সে সময়ে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশপন্থীদের অবস্থান কী হবে তা পরিস্কার হতে থাকে। ১৯৭০ এর নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের রাজনীতির অবিসংবাদিত যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি ও তাঁর সহযোগীদের নির্দেশনায় সেটা কার্যকর হয়। ১৯৭০ এর নির্বাচনের আগে পল্টনে শেষ জনসভা করতে পারেনি জামায়াতে ইসলামী। তারা সেদিন জনসভা ছেড়ে দলে দলে পালাতে বাধ্য হয়। শেখ ফজলুল হক মনি বুঝেছিলেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সৃষ্টির বিরোধী শক্তি, এদের সঙ্গে কোন রাজনীতি নয়, এদেরকে দমন করতে হবে। সেদিন জনতা ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতিরোধের ফলে জনসভা ছেড়ে জামায়াত নেতা মওদুদী সহ সকলে পালিয়ে যায়। জামায়াতে ইসলামীর জনসভার সেদিন কী অবস্থা হয়েছিলো তার কোন টিভি ফুটেজ আছে কিনা আমার জানা নেই তবে আজকের প্রজম্ম ইচ্ছে করলে ওই সময়ের আজাদ পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে নিতে পারেন। হাজার হাজার স্যান্ডেল পড়ে ছিলো পল্টনে। তৎকালীন স্বাধীনতাপন্থী ছাত্র, শ্রমিক ও যুবকর্মীদের প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে যায় এই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। সত্যিকার অর্থে কোন নির্বাচনী এলাকায়ও সেদিন এই স্বাধীনতা বিরোধীদের দাঁড়াতে দেয়নি তৎকালীন প্রগতিশীল ছাত্র ও যুবসমাজ। ১৯৭০ এর নির্বাচন ছিলো বাঙালির স্বাধীনতার জন্যে জনতার রায় পাবার নির্বাচন- তাই ওই নির্বাচনের সব ক্ষেত্রে স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানপন্থীদের প্রতিহত করাই কর্তব্য ছিলো। কারণ, আর যাই হোক গণতন্ত্রে ‘আমি স্বাধীন থাকবো না’ এর পক্ষে কোন ভোট হতে পারে না। স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার, এর বিপরীতে কথা বলার, ভোট দেবার কোন সুযোগ নেই। গনতন্ত্র মানে এতটা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। বরং গণতন্ত্রে স্বাধীনতার স্বপক্ষে অস্ত্রধরা বৈধ এবং স্বাধীনতার বিপক্ষে যারা অস্ত্র ধরবে তারা যুদ্ধাপরাধী, খুনি- তাদের বিচার হবে, তাদের শাস্তি দিতে হবে এটাই বৈধ।