চাঁদপুরের মতলব উত্তরে শাহজাহানের বিরুদ্ধে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

7155

ইউনিয়ন সভাপতি শাজাহান, সব জয়গায় ভাগ বসান

মতলব ঘু‌রে এ‌সে রু‌বেল মাদবর

চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ৩ নং সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান সরকার। বংশগত হিসাবে বেপারী হলেও নামের টাইটেলে এখন যোগ করেছেন সরকার। টানা প্রায় ২০ বছর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তিনি। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের নানা উন্নয়ন প্রকল্পের নামে চাঁদাবাজি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। ক্ষুণ্ন করেছেন সরকারের ভাবমূর্তি। দলের নাম ভাঙিয়ে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। নয়াকান্দি ও গোপালকান্দি গ্রামে রাস্তা নির্মাণ ও বিদ্যুৎ দেয়ার নামে গ্রামবাসীর কাছ থেকে হাতিয়েছেন অর্ধকোটি টাকা। এছাড়া পুরো ইউনিয়ন জোরেই গ্রাম্য বিচার সালিশ ও জমিজমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে উৎকোচ নেয়ার অভিযোগও আছে অনেক।
স্থানীয় বেলতলী বাজারে সরকারি জমি দখল করে গড়ে তুলেছেন মার্কেট। নয়াকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়ায় পাশেই খাসজমিতে গড়েছেন মুরগির খামার। বাদ যায়নি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মৎস্য খামার আর জমিও। সংস্থাটির জমিতে ইটভাটা ভাড়া দিয়ে বছরে এখনো অবৈধ আয় দশ লাখ টাকা।


সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে মিলেছে এসব তথ্য। জানা যায় ২০১২/১৩ সালে
ইউনিয়নের নয়াকান্দি ও গোপাল কান্দি গ্রামে বিদ্যুৎ দিয়েছে সরকার আর পকেট ভারী হয়েছে সভাপতি-সাজাহানের। গ্রামের প্রতিটি ঘরে মিটার প্রতি সর্বনিম্ন ৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন সাজাহান সরকার। দুই গ্রামের প্রায় ৩০০ মিটার থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন অর্ধকোটি টাকা। অথচ সরকারের খরচ ছিল মিটার প্রতি দুই হাজার টাকারও কম।
নয়াকান্দি গ্রামের একটি খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করেছে ওয়াপদা আর গ্রামবাসীর কাছ থেকে রাস্তা নির্মাণের কথা বলে ঘরপ্রতি তুলেছেন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা।

যাতে হাতিয়ে নেন কয়েক লাখ টাকা। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে টেলিফোনে শাজাহান সরকার বলেন, বিদ্যুতের কোন টাকা আমি হাতে নেইনি। টাকা কালেকশন করেছে বিএনপি সমর্থিত সাবেক ইউপি সদস্য মনির হোসেন, নিজামুদ্দিন সহ আরও কয়েকজন। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি বলেন যে টাকা কালেকশন এর সময় আমি সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম তবে টাকা হাতে গুনে দেখিনি।
এদিকে এ বিষয়ে সাবেক মেম্বার মনির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সব টাকাই শাজাহান সাহেব কালেকশন করেছেন। আমি মূর্খ মানুষ এসব বিষয়ে কোন কিছুই জানিনা। মনির আরো জানান বৈদ্যুতিক খুঁটি আসার আগেই গ্রাম দুটিকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে ভাগ করে সাজাহান। যাতে কালেকশন এর দায়িত্ব দেয়া হয় নিজামুদ্দিন ও জয়নালকে, তারাই টাকা কালেকশন করে শাহজাহানকে বুঝিয়ে দেয়। খাম্বা আসার আগেই প্রতি ঘর থেকে মিটার প্রতি নেয়া হয় পাঁচ হাজার করে টাকা এবং খাম্বা আসার পরেও আরো ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কালেকশন করা হয়। যাতে বাদ যাননি প্রবাসীরাও। এই পুরো অর্ধ কোটি টাকাই যায় শাহজাহানের হাতে।


বেলতলী বাজারে সরকারি জায়গায় মার্কেট তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহান বলেন, আমি জায়গা দখল করিনি কিন্তু এসিল্যান্ড মেপে দিলে আমি সরকারি জায়গা ছেড়ে দিব।
তবে নয়াকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা দখলের কথা স্বীকার করেন তিনি। বলেন বালুর ব্যবসা ও খামার করছি করছি প্রয়োজনে ছেড়ে দিব।
তার এসব অপকর্মের বিষয়ে জান‌তে চাই‌লে থানা আওয়ামী লীগ (মতলব উত্তর) সভাপ‌তি মোঃ রুহুল ব‌লেন অভিযোগের বিষয়ে আমি তদ্ন্ত করে দেখ‌বো।