এনায়েতনগর মসজিদ কমিটি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ

51
এনায়েতনগর মসজিদ কমিটি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ
এনায়েতনগর মসজিদ কমিটি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ

সংঘর্ষের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিনিধি 
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন এনায়েতনগর পশ্চিমপাড়া বাইতুল আমান জামে মসজিদ এর নব কমিটি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই। এলাকাবাসী অনেকের মধ্যে এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে গুটি কয়েক পরিবারের লোকজন দিয়েই এই কমিটি সাজানো হয়েছে। স্থান পায়নি এলাকার অনেক পরিবারের মুসল্লিগণ। অনেকে এমনও বলে থাকেন বংশগত পেশীশক্তির প্রভাব খাটিয়ে কূটকৌশলে এই কমিটির গঠন। এমরানের যোগ্যতা নিয়েও রয়েছে মতবিরোধ। তবে কমিটি নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ মতবিরোধ থাকলেও এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লী সমাজের দাবি অচিরেই এই বিরোধের নিস্পত্তি হোক।

আরও পড়ুনঃ

বড়াইগ্রামে ভেজাল গুড় তৈরীর অপরাধে জরিমানা

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিন

এলাকাসূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মৃতঃ আঃ ওয়াহেদ’র পুত্র দ্বীল মোহাম্মদ এর ওয়াক্ফ নামা দলিলমূলে প্রথম পর্যায়ে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হলে মোতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দ্বীল মোহাম্মদ ও আনসার আলী। মসজিদ চলমান থাকাকালীন দ্বিতীয় পর্যায়ে মোঃ আজিজুল্লাহ্ কাজী, খায়রুল কবির কতক জমি ক্রয় করে মসজিদের নামে ওয়াক্ফ করিয়া দিলে মসজিদের সীমানা বর্ধিত হয়ে মোট জমির পরিমাণ ০.১১৬১ একরের মধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হয়।
দ্বীল মোহাম্মদ মৃত্যুবরণ করলে পরবর্তী মোতওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করেন মোঃ আজিজুল্লাহ্ কাজী, আহসান উল্লাহ্ কাজী, খায়রুল কবির, আবুল হাসেম ও জাহাঙ্গীর আলম। তারা দীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ মসজিদের সকল উন্নয়ন মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। গত বছর নাগাদ আজিজুল্লাহ্ কাজী শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তার ছেলে মোঃ এমরান হোসেনকে মোতাওয়াল্লী ঘোষণা দিলে দ্বীল মোহাম্মদ’র বংশভূত ওয়ারিশদের বিরোধিতা শুরু হয়।
মোঃ এমরান হোসেন মোতাওয়াল্লী নিযুক্ত হবার পর ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা দেন আগামী তিন বছরের জন্য। এ কমিটির সভাপতি হিসেবে স্থান পান মৃত মোঃ আলী আকবর’র পুত্র মোঃ অহিদ আলম ও সাধারণ সম্পাদক/মোতওয়াল্লী মোঃ আজিজুল্লাহ’র পুত্র মোঃ এমরান হোসেন।
১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ তারিখের এ কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করতে গিয়ে গত ২১ মে ২০২১ তারিখে জুম্মার নামাযের সময় মসজিদের ভিতরে বাক-বিতণ্ডাসহ বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হলে স্থানীয় ০৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ রুহুল আমিন মোল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশ পাহাড়ায় জুম্মার নামাজ সমাপ্ত করে পরিবেশ শান্ত করেন।
পরিবেশ শান্ত করলেও এখনো এর সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় সুলতান মাহমুদ বাদী হয়ে কমিটির বিরুদ্ধে মোকাম নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। যাহার মোকদ্দমা নং – ৫৯/২০২১।
কমিটির এ বিষয় নিয়ে সাধারণ সম্পাদক/মোতাওয়াল্লী মোঃ এমরানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি নিয়মতান্ত্রিকভাবেই এলাকাবাসী মুসল্লীদের সম্মতিক্রমে এই কমিটি গঠন করেছি এবং এই কমিটির কাগজপত্র বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে সমস্ত কাগজপত্র প্রেরণ করেছি।
সুলতান মাহমুদের কমিটি নিয়ে মামলার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, সুলতান মাহমুদ নিজে উপস্থিত থেকে আমাদের কমিটির বৈধতা দিলেও আজ কেন এ কমিটির বিরোধিতা করছে তা আমার বোধগম্য নয়।
অপরদিকে দ্বীল মোহাম্মদ’র বংশগত ওয়ারিশগণ দাবী করেন মসজিদের সিংহভাগ জমি দ্বীল মোহাম্মদ ওয়াক্ফ করলেও এই কমিটির কোথাও আমাদের পরিবারের সদস্যদের রাখা হয়নি। সেই সাথে সমাজের অনেক মুসল্লীকে বাদ দিয়ে তাদের মনমতো এই কমিটি করায় আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জহ সিটি কর্পোরেশন’র ০৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা বলেন, গত ২১ শে মে মসজিদের ভিতর বিশৃঙ্খলার বিষয়টি অবগত হয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেই সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশও উপস্থিত ছিলেন। কমিটি নিয়ে মতবিরোধ থাকার বিষয়টি অবগত হয়ে সিদ্ধান্ত নেই যে, এলাকাবাসী মুসল্লীদের সকলের উপস্থিতিতে এই কমিটির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হবে। কিন্তু মোঃ আজিজুল্লাহ’র পুত্র মোঃ এমরান হোসেন এর গোঁড়ামি ও একক সিদ্ধান্তের কারণে বিষয়টির এখনও কোন সুষ্ঠু সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তবে আমার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সমাধানের জন্য অনেকের সাথেই আলোচনা চলছে।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা চাই সুন্দর-শান্তিপূর্ণ একটি সমাজ; মসজিদের উন্নয়ন। মসজিদ হলো একটি পবিত্র স্থান। এখানে লোভ-লালসা বা হিংসার স্থান নেই। বিষয়টি মাননীয় এমপি মহোদয়, জেলা প্রশাসক, ওয়াক্ফা কমিটি, স্থানীয় কাউন্সিলরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ সুবিবেচনা করে দ্রুত এ বিরোধের নিষ্পত্তি করলে আমরা এলাকাবাসী উপকৃত হবো।